"Website banate koto taka lage?" — ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির খরচ কত — এই প্রশ্ন একবার করলেই পুরো আলাদা আলাদা উত্তর পাবেন। একটা এজেন্সি বলবে ৩০,০০০ টাকা। আরেকটা বলবে ৩ লাখ। কোনো ফ্রিল্যান্সার বলবে ৮,০০০ টাকায় করে দেবে, কিন্তু প্রজেক্ট মাঝপথে আটকে যায়। আবার কোনো বন্ধু বলবে WooCommerce তো "ফ্রি"।
এর কোনোটাই ঠিক মিথ্যা নয়। বাংলাদেশে ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির খরচ আসলেই কয়েক হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ পর্যন্ত হয় — কারণ "একটা ওয়েবসাইট" মানে একেকজনের কাছে একেক জিনিস। এই পোস্টে প্রতিটা রাস্তার খরচ সৎভাবে ভাঙব, প্রথম কোটেশনে যে রিকারিং বিলগুলো কেউ বলে না সেগুলো সহ — আর ০ টাকা কোথায় খাটে সেটাও।
ওয়েবসাইট পাওয়ার তিনটা রাস্তা
আসলে রাস্তা মোটে তিনটা, আর তিনটার খরচ একেবারে আলাদা:
- এজেন্সি বা ফ্রিল্যান্সার দিয়ে বানানো — তারা আপনার জন্য কাস্টম সাইট বানায়, আপনি আপফ্রন্ট পে করেন।
- নিজে WooCommerce (WordPress)-এ বানানো — সফটওয়্যার ফ্রি, আশেপাশের সবকিছু ফ্রি না।
- Banikh-এর মতো হোস্টেড প্ল্যাটফর্ম ইউজ করা — সাইন আপ করে প্রোডাক্ট যোগ করেন; হোস্টিং, পেমেন্ট আর কুরিয়ার বিল্ট-ইন।
আসুন প্রতিটার একটা বাস্তব রেঞ্জ দেখি। যেখানে নম্বরটা প্রজেক্টভেদে অনেক বদলায়, সেখানে এক দাম আছে বলে ভান না করে সরাসরি বলে দেব।
অপশন ১: এজেন্সি / ফ্রিল্যান্সার (২০,০০০–৩,০০,০০০+ টাকা)
"ই-কমার্স ওয়েবসাইট" বললে বেশিরভাগ মানুষ এটাই ভাবেন। আপনি কী চান বলেন, এজেন্সি ডিজাইন করে বানিয়ে দেয়, আপনি একটা ওয়ান-টাইম ফি দেন।
বাংলাদেশে এজেন্সি দিয়ে বানানো ই-কমার্স সাইটের খরচ সাধারণত ২০,০০০–৩,০০,০০০ টাকা ওয়ান-টাইম। এটা একটা চওড়া রেঞ্জ, আর আপনি কোথায় পড়বেন সেটা নির্ভর করে বিল্ডের উপর:
- সিম্পল স্টোর এই রেঞ্জের নিচের দিকে পড়ে।
- মিড-সাইজ স্টোর, বেশি প্রোডাক্ট আর ডিজাইন কাজসহ, মাঝামাঝিতে পড়ে।
- কমপ্লেক্স, পুরো কাস্টম বা অ্যাপ-স্টাইল বিল্ড উপরের দিকে ঠেলে দেয় — খুব বেসপোক প্রজেক্ট এর বাইরেও যেতে পারে।
এটা ফিক্সড দাম না, একটা চওড়া রেঞ্জ ধরবেন — ফাইনাল নম্বরটা ডিজাইন, ফিচার আর পেমেন্ট-কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশনে কত কাস্টম ডেভেলপমেন্ট লাগছে তার উপর নির্ভর করে। সবসময় আইটেমাইজড কোটেশন চেয়ে নেবেন।
যেটা মানুষকে চমকে দেয় সেটা হলো — ওই ওয়ান-টাইম দামে যা থাকে না:
- হোস্টিং — আলাদা একটা রিকারিং বিল, বিল্ডের সাথে নয়।
- ডোমেইন — প্রতি বছর রিনিউ।
- মেইনটেনেন্স — অনেক এজেন্সি সিকিউরিটি আপডেট, ফিক্স আর হোস্টিং ম্যানেজমেন্টের জন্য একটা রিকারিং মাসিক রিটেইনার দেয়। রেট এজেন্সিভেদে আলাদা, তাই শুরুতেই জিজ্ঞেস করে নিন কী কী থাকছে আর খরচ কত।
- চেঞ্জ — আগামী বছর নতুন পেমেন্ট মেথড যোগ করতে বা চেকআউট একটু বদলাতে চান? সেটার জন্য সাধারণত নতুন কোটেশন।
মানে এজেন্সি সাইট শুধু একটা ওয়ান-টাইম খরচ না। এটা একটা আপফ্রন্ট খরচ প্লাস একটা চলমান সম্পর্ক, যেটা চালিয়ে নিতে বারবার পে করতে হয়। বাজেট থাকলে আর পুরোপুরি নিজের মতো কাস্টম কিছু চাইলে এটা ঠিকই আছে — কিন্তু সবে শুরু করা একজন সেলারের জন্য প্রথম অর্ডারের আগেই অনেক টাকা আটকে যায়।
অপশন ২: WooCommerce / WordPress ("ফ্রি" — যতক্ষণ না বিল শুরু হয়)
WooCommerce আসলেই ফ্রি সফটওয়্যার। এই কথাটাই সবাই বারবার বলে। যেটা বাদ দেয় সেটা হলো — এর আশেপাশের যা যা পে করতে হয়।
কাউকে দিয়ে WooCommerce স্টোর সেটআপ করালে সেই ওয়ান-টাইম বিল্ড আলাদা একটা কোটেশন (কাকে দিয়ে করাচ্ছেন আর কতটা কাস্টম হচ্ছে তার উপর অনেক বদলায় — কারেন্ট রেট জিজ্ঞেস করে নিন)। আর পুরোটা নিজে করলেও যেগুলো ঘাড়ে নিতে হয়:
- হোস্টিং — একটা রিকারিং মাসিক বা বাৎসরিক বিল, আর স্লো হোস্ট মানে স্লো স্টোর।
- ডোমেইন — প্রতি বছর রিনিউ।
- প্লাগইন — bKash আর Nagad কাজ করাতে সাধারণত SSLCommerz বা কাস্টম প্লাগইন লাগে। Steadfast, Pathao বা RedX-এর কুরিয়ার ইন্টিগ্রেশনে আরও সেটআপ বা পেইড প্লাগইন লাগে।
- মেইনটেনেন্স — এজেন্সিরা সিকিউরিটি আপডেট, হোস্টিং, ফিক্স আর SEO-র জন্য WooCommerce রিটেইনার দেয় (মাসিক রেট আলাদা আলাদা — কারেন্ট কোটেশন চেয়ে নিন)। নিজে ম্যানেজ করলে প্লাগইন প্যাচ করা আর সাইট ডাউন হলে ঠিক করা — সব আপনারই কাজ।
WooCommerce আপনাকে ফুল ওনারশিপ আর আনলিমিটেড ফ্লেক্সিবিলিটি দেয়, এটা সত্যি। কিন্তু "ফ্রি সফটওয়্যার" আর "ফ্রি স্টোর" এক জিনিস না। নন-টেকনিক্যাল সেলারের জন্য সময় আর রিকারিং খরচ দ্রুত যোগ হতে থাকে — আর মেইনটেন না করা WordPress সাইট মানে অপেক্ষায় থাকা একটা সিকিউরিটি সমস্যা।
অপশন ৩: Banikh (২৫ প্রোডাক্ট পর্যন্ত ফ্রি ফরএভার)
এখন সৎ কথাটা, কোনো মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ ছাড়া: Banikh-এর ফ্রি প্ল্যানে ২৫টা পর্যন্ত প্রোডাক্ট নিয়ে একটা আসল ই-কমার্স স্টোর বানাতে পারবেন, ফরএভার, কোনো ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই।
এটা ১৪ দিনের ট্রায়াল না যেটা শেষ হয়ে যায়। এটা একটা ফ্রি টায়ার, যেটায় একটা ছোট স্টোর অনির্দিষ্টকাল চালাতে পারবেন। আর যেগুলো অন্য সবখানে এক্সট্রা খরচ, এখানে আগে থেকেই ইনক্লুডেড:
- bKash, Nagad আর COD — নেটিভ, কোনো প্লাগইন নেই, আলাদা গেটওয়ে কিনতে হয় না।
- Steadfast, Pathao আর RedX — বিল্ট-ইন। অর্ডার ড্যাশবোর্ড থেকেই শিপমেন্ট বুক করুন।
- ফোন-OTP চেকআউট — ফেক / ঘোস্ট COD অর্ডার কুরিয়ারে পৌঁছানোর আগেই কমাতে।
- নিজের সাবডোমেইন (
yourshop.banikh.com) ফ্রি, বা কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করুন। - হোস্টিং, সিকিউরিটি আর আপডেট — পুরোপুরি ম্যানেজড। আপনি কিছু প্যাচ করেন না।
২৫টা প্রোডাক্ট ছাড়িয়ে গেলে পেইড প্ল্যানগুলো ফ্ল্যাট আর প্রেডিক্টেবল:
- Plus — ৪৯৯ টাকা/মাস (বা ৪,৯৯০ টাকা/বছর)
- Pro — ১,৫৯৯ টাকা/মাস (বা ১৫,৯৯০ টাকা/বছর)
আপনার বিক্রয়ে কোনো কমিশন নেই — কখনোই। Banikh সাবস্ক্রিপশন-ওনলি। কাস্টমার bKash বা Nagad-এ পেমেন্ট করলে টাকা সরাসরি আপনার মার্চেন্ট ওয়ালেটে যায়, প্ল্যাটফর্মের এসক্রোতে নয়। COD-এর টাকা কুরিয়ার সরাসরি আপনাকে রিমিট করে। আমরা আপনার টাকা ধরে রাখি না, কোনো অর্ডার থেকে কাটও নিই না।
একটা একটা করে প্রোডাক্ট তোলার ঝামেলা এড়াতে চাইলে — পুরো ক্যাটালগ একটা Google Sheet-এ বানিয়ে, CSV হিসেবে ডাউনলোড করে বাল্ক ইম্পোর্ট করতে পারবেন। কোনো ডেভেলপার লাগে না, আর দ্রুতই লাইভ হয়ে যাবেন।
তাহলে আসলে কত টাকা দেওয়া উচিত?
সৎ সারকথাটা এই:
- পুরোপুরি কাস্টম-ডিজাইন স্টোর দরকার আর বাজেট আছে — তাহলে এজেন্সি বিল্ড (২০,০০০–৩,০০,০০০+ টাকা ওয়ান-টাইম, প্লাস হোস্টিং আর মেইনটেনেন্স) যৌক্তিক।
- ডেভেলপার আছে আর পুরো কন্ট্রোল চান — WooCommerce ভালো অপশন, যদি রিকারিং হোস্টিং, প্লাগইন আর মেইনটেনেন্সের খরচ মেনে নেন।
- লোকাল বাংলাদেশি সেলার, বড় আপফ্রন্ট বিল ছাড়াই এখনই শুরু করতে চান — Banikh-এর ফ্রি টায়ারে নেটিভ bKash, Nagad আর কুরিয়ার সহ একটা আসল স্টোর পাবেন, ০ টাকায়।
নতুন সেলারদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো ব্যবসাটা প্রমাণ হওয়ার আগেই এজেন্সির টাকা ঢেলে দেওয়া। ফ্রি দিয়ে শুরু করুন, প্রথম অর্ডারগুলো পান, আর আপগ্রেড করুন শুধু তখনই — যখন গ্রোথ বলে, কোনো সেলস পিচ নয়।
শুরু করতে প্রস্তুত?
আজই বিনামূল্যে স্টোর তৈরি করুন — ২৫টা প্রোডাক্ট ফরএভার ফ্রি, বিক্রয়ে কোনো কমিশন নেই, কোনো ক্রেডিট কার্ড লাগবে না।